দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: রেবিন চৌধুরী


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ৩:০৫ অপরাহ্ন /
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: রেবিন চৌধুরী

সিবিভি: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই চিরায়ত বাংলার, মহীয়সী কিংবদন্তি রাষ্ট্র নায়িকা।তার শেষ বিদায়ে আল্লাহ যে উনাকে এতো সম্মান দিয়েছেন তাতে সমগ্র জাতির সাথে আমারও হৃদয়টা গর্বে ফুলে উঠেছে আলহামদুলিল্লাহ।

উনার প্রতি আমার যে একটা বিশেষ দূর্বলতা ছিল। উনার সাজ পোশাকে ফোটে উঠতো আধুনিকতাসহ শালীনতার সমারোহ। উনি হাসিনার মতো ধর্ম ব্যবসার জন্য মাথায় মাঝেমধ্যে পট্রি বাধতেন না। নিসন্দেহে তিনি ধার্মিক ছিলেন কিন্তু সময়ের সদব্যবহার করে লেবাসের মর্যাদা নষ্ট করতেন না। রাত ৩টায় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য জায়নামাজ খোঁজে আনার বয়ান মিডিয়া কে জানানি। সবসময় মুখের ভাষায় ভদ্রতাসহ সংযত ভাব বজায় রেখে কথা বলতেন সেটা তিনি হাসিনার সম্পর্কে হলেও তার ব্যাক্তিত্বে তিনি কালিমা লাগতে দেননি। তার এসব গুণগত দিক আর দেশের মানুষের প্রতি আন্তরিকতা সব মিলিয়ে উনার প্রতি আমার মায়ের মতো শ্রদ্ধাবোধ কাজ করতো। এটা আমার বাচ্চারা জানত তাই বেগম জিয়ার মৃত্যু সংবাদ স্যোশাল মিডিয়ায় দেখামাত্র আমার ছেলে রুম হতে বেরিয়ে এসে আমাকে জানায়, তবে খবরটা আমাকে তেমনটা আহত করেনি যতটা শহীদ জিয়ার বেলায় ছিল। কারন তিনি তো মৃতপ্রায় ছিলন। বিকেলে আবার বড় মেয়েটা ফোন করে বলতেছে আম্মা তোমার খালেদা তো মারা গেলেন।
যদিও আমি কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত নই কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকে উনার আদর্শে গড়া দলের প্রতি ভালোবাসা ছিল প্রচুর। আমার বয়স যখন ১৩/১৪ হবে তখন থেকে রেডিওতে উনার ভাষণ শুনতাম আগ্রহ নিয়ে। আমার আব্বাও উনার ভাষণ শুনার অপেক্ষায় থাকতেন। যেদিন জিয়াউর রহমান শহীদ হলেন আমি রেডিওতে সকাল নয়টার খবরের শুরুতেই হঠাৎ শুনি জিয়াউর রহমনকে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যা করা হয়েছে আমি এটুকু শুনেই দৌড়ে গিয়ে আব্বাকে খবরটা দেই। আব্বাও চমকে উঠেন তখন আব্বা ও দৌড়ে বাইরের উঠোন হতে আসলেন। একটু পর পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলছি (আরেক স্বৈরাচার) ভাষণ দিতে থাকে। সেদিন আমি প্রথম অনুভব করি শহীদ জিয়ার প্রতি আমার হৃদেয়ে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি যে কতটা প্রবল।

একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমি বুঝতে পারি বুকের ভিতর এক বিষাক্ত যন্ত্রনা যা এখনো সময়ে আমাকে জানান দেয়। আমার বিশ্বাস এমন অসম্ভব রকমের ভালো দুজন মানুষ কে আল্লাহ জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করবেন ইনশাআল্লাহ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুও বাংলার সর্বস্থরের মানুষকে কাঁদিয়ে ছিলো, জানাজায় ছিল জনতার মিছিল। আল্লাহ উনাদের আত্মার মিলন করে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান বানান আমীন।

লেখক: রেবিন চৌধুরী, কবি ও গীতিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।